Wednesday, July 21, 2021

মাটির ও পিঞ্জিরায় সোনার ময়নারে - শাহ আবদুল করিম

 মাটির ও পিঞ্জিরায় সোনার ময়নারে


তোমারে পুষিলাম কত আদরে!

তুমি আমার, আমি তোমার এই আশা করে

তোমারে পুষিলাম কত আদরে!


কেন এই পিঞ্জিরাতে তোমার বসতি

কেন এই পিঞ্জিরার সাথে তোমার পিরিতি!

আশা যাওয়া দিবা-রাতি ঘরে বাহিরে

তোমারে পুষিলাম কত আদরে!


তোমার ভাবনা আমি ভাবি নিশিদিন

দিনে দিনে পিঞ্জিরা মোর হইল মলিন!

পিঞ্জিরা ছাড়িয়া একদিন যাইবে উড়ে

তোমারে পুষিলাম কত আদরে!


আব্দুল করিম বলে ময়না তোমারে বলি

তুমি গেলে হবে সাধের পিঞ্জিরা খালি!

কে বলিবে মধুর বুলি বল আমারে

তোমারে পুষিলাম কত আদরে!


মাটির ও পিঞ্জিরায় সোনার ময়নারে

তোমারে পুষিলাম কত আদরে!

তুমি আমার, আমি তোমার এই আশা করে

তোমারে পুষিলাম কত আদরে!

খাঁচার ভিতর অচিন পাখি - লালনগীতি

 খাঁচার ভিতর অচিন পাখি

কেমনে আসে যায়।
ধরতে পারলে মনবেড়ি
দিতাম পাখির পায়।।

আট কুঠুরী নয় দরজা আঁটা
মধ্যে মধ্যে ঝরকা কাঁটা।
তার উপরে সদর কোঠা
আয়নামহল তায়।।

কপালের ফ্যার নইলে কি আর
পাখিটির এমন ব্যবহার।
খাঁচা ভেঙ্গে পাখি আমার
কোন বনে পালায়।।

মন তুই রইলি খাঁচার আশে
খাঁচা যে তোর কাঁচা বাঁশে।
কোন দিন খাঁচা পড়বে খসে
ফকির লালন কেঁদে কয়।।

মিলন হবে কত দিনে - লালনগীতি

 মিলন হবে কত দিনে

আমার মনের মানুষের সনে।।

চাতক প্রায় অহর্নিশি
চেয়ে আছে কালো শশী।
হব বলে চরণদাসী
তা হয় না কপাল গুণে।।

মেঘের বিদ্যুৎ মেঘে যেমন
লুকালে না পায় অন্বেষণ।
কালারে হারায়ে তেমন
ঐ রূপ হেরি এ দর্পণে।।

ঐ রূপ যখন স্মরণ হয়
থাকে না লোকলজ্জার ভয়।
লালন ফকির ভেবে বলে সদাই
ও প্রেম যে করে সেই জানে।।

মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি - লালনগীতি

 মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপা রে তুই মূল হারাবি।।

এই মানুষে মানুষ গাথা
গাছে যেমন আলকলতা।
জেনে শুনে মুড়াও মাথা
জাতে ত্বরবি।।

দ্বিদলে মৃণালে
সোনার মানুষ উজলে।
মানুষ গুরুর কৃপা হলে
জানতে পাবি।।

এই মানুষ ছাড়া মন আমার
পড়বি রে তুই শূন্যকার।
লালন বলে মানুষ আকার
ভজলে তারে পাবি।।

তিন পাগলে হলো মেলা - লালনগীতি

 তিন পাগলে হলো মেলা নদে এসে

তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে ।।

একটা পাগলামি করে
জাত দেয় সে অজাতেরে দৌড়ে গিয়ে
আবার হরি বলে পড়ছে ঢলে
ধূলার মাঝে ।।

একটা নারকেলের মালা
তাতে জল তোলা ফেলা করঙ্গ সে
পাগলের সঙ্গে যাবি পাগল হবি
বুঝবি শেষে ।।

পাগলের নামটি এমন
বলিতে অধীন লালন হয় তরাসে
চৈতে নিতে অদ্বৈ পাগল
নাম ধরে সে ।।

তোরা কেউ যাসনে ও পাগলের কাছে

সময় গেলে সাধন হবে না - লালনগীতি

সময় গেলে সাধন হবে না
দিন থাকতে দ্বীনের সাধন কেন জানলে না
তুমি কেন জানলে না
সময় গেলে সাধন হবে না

জানো না মন খালে বিলে
থাকে না মিল জল শুকালে
কি হবে আর বাঁধা দিলে
মোহনা শুকনা থাকে, মোহনা শুকনা থাকে,
সময় গেলে সাধন হবে না
সময় গেলে সাধন হবে না

অসময়ে কৃষি কইরে মিছা মিছি খেইটে মরে
গাছ যদি হয় বীজের জোরে ফল ধরে না
তাতে ফল ধরে না,
সময় গেলে সাধন হবে না

অমাবস্যায় পূর্নিমা হয়
মহা জোগ সে দিনের উদয়
লালোন বলে তাহার সময়
দনডোমো রয় না, দনডোমো রয় না,দনডোমো রয় না
সময় গেলে সাধন হবে না

দিন থাকতে দ্বীনের সাধন কেন জানলে না
তুমি কেন জানলে না

সময় গেলে সাধোন হবে না 

রবে না এ ধন - লালনগীতি

 মন আমার গেল জানা ।

কারো রবে না এ ধন জীবন যৌবন
… তবেরে কেন এত বাসনা;
একবার সবুরের দেশে বয় দেখি দম কষে
উঠিস নারে ভেসে পেয়ে যন্ত্রণা । ।

যে করল কালার চরণের আশা
জানোনারে মন তার কী দুর্দশা
ভক্তবলী রাজা ছিল, সর্বস্ব ধন নিল
বামুনরুপে প্রভু করে ছলনা। ।

প্রহ্লাদ চরিত্র দেখ চিত্রধামে
কত কষ্ট হল সেই কৃষ্ণনামে
তারে অগ্নিতে জ্বালালো জলে ডুবাইল
তবু না ছাড়িল শ্রীরূপসাধনা । ।

কর্ণরাজা ভবে বড় দাতা ছিল
অতিথিরূপে তার সবংশ নাশিল
তবু কর্ণ অনুরাগী, না হইল দুখী
অতিথির মন করল সান্ত্বনা । ।

রামের ভক্ত লক্ষণ ছিল সর্বকালে
শক্তিশেল হানিল তার বক্ষস্হলে
তবু রামচন্দ্রের প্রতি, লক্ষণ না ভুলিল ভক্তি
লালন বলে কর এ বিবেচনা । ।

বাড়ির কাছে আরশিনগর লালন গীতি

 বাড়ির কাছে আরশিনগর

সেথা এক পড়শি বসত করে।
আমি একদিনও না দেখিলাম তাঁরে।।

গেরাম বেড়ে অগাধ পানি
নাই কিনারা নাই তরণী পারে।
মনে বাঞ্ছা করি দেখব তারে
কেমনে সে গাঁয় যাই রে।।

কি বলবো সেই পড়শির কথা
তার হস্তপদ স্কন্ধমাথা নাইরে।
ক্ষণেক থাকে শূন্যের উপর
ক্ষণেক ভাসে নীরে।।

পড়শি যদি আমায় ছুঁতো
যম যাতনা সকল যেতো দূরে।
সে আর লালন একখানে রয়
তবু লক্ষ যোজন ফাঁক রে।।

ধন্য ধন্য বলি তারে লালন গীতি

 ধন্য ধন্য বলি তারে

বেঁধেছে এমন ঘর শূন্যের উপর পোস্তা করে

সবে মাত্র একটি খুঁটি
খুঁটির গোড়ায় নাইকো মাটি
কিসে ঘর রবে খাঁটি
ঝড়ি তুফান এলে পরে

মূলাধার কুঠুরি নয়টা
তার উপরে চিলেকোঠা
তাহে এক পাগলা বেটা
বসে একা একেশ্বরে

উপর নিচে সারি সারি
সাড়ে নয় দরজা তারি
লালন কয় যেতে পারি
কোন দরজা খুলে ঘরে

ধন্য ধন্য বলি তারে……

জাত গেল জাত গেল বলে লালনগীতি

 জাত গেল জাত গেল বলে

একি আজব কারখানা।
সত্য কাজে কেউ নয় রাজি
সবই দেখি তা না না না।।

আসবার কালে কি জাত ছিলে
এসে তুমি কি জাত নিলে।
কি জাত হবা যাবার কালে
সেই কথা ভেবে বলো না।।

ব্রাহ্মণ চন্ডাল চামার মুচি
এক জলে সব হয় গো শুচি।
দেখে শুনে হয় না রুচি
যমে তো কাউকে ছাড়বে না।।

গোপনে যে বেশ্যার ভাত খায়
তাতে ধর্মের কী ক্ষতি হয়।
লালন বলে জাত কারে কয়
এই ভ্রম তো গেল না।।

চাতক স্বভাব না হলে লালনগীতি

 অমৃত মেঘের বারি

মুখের কথায় কি মেলে।
চাতক স্বভাব না হলে।।

মেঘে কত দেয় গো ফাঁকি
তবু চাতক মেঘের ভুখী।
অমনি নিরিখ রাখলে আঁখি
তারে সাধক বলে।।

চাতক পাখির এমনি ধারা
তৃষ্ণায় জীবন যায় গো মারা।
অন্য বারি খায় না তারা
মেঘের জল বিনে।।

মন হয়েছে পবন গতি
উড়ে বেড়ায় দিবারাতি।
ফকির লালন বলে গুরুর প্রতি
মন রয় না সুহালে।।

জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা লালনগীতি

 আছেন কোথায় স্বর্গপুরে

কেউ নাহি তার ভেধ জানে
কেন জিজ্ঞাসিলে খোদার কথা
দেখায় আসমানে।।

পৃথিবী গোলাকার শুনি
অহর্নিশি ঘোরে আপনি।
তাইতে হয় দিন-রজনী
জ্ঞানী গুনী তাই মানে।।

একদিকেতে নিশি হলে
অন্যদিকে দিবা বলে
আকাশতো দেখে সকলে
খোদা দেখে কয়জনে।।
আপন ঘরে কে কথা কয়
না জেনে আসমানে তাকায়
লালন বলে কেবা কোথায়
বুঝিবে দিব্যজ্ঞানে।।

সব লোকে কয় লালন কি জাত এ সংসারে

জগৎ বেড়ে জাতির কথা

লোকে গল্প করে যথাতথা
জগৎ বেড়ে জাতির কথা
লোকে গল্প করে যথাতথা

লালন বলে, জাতের ফাৎনা...
লালন বলে, জাতের ফাৎনা ডুবিয়েছি সাধ-বাজারে

সব লোকে কয়, লালন কি জাত সংসারে
সব লোকে কয়, লালন কি জাত সংসারে

লালন বলে, জাতের কি রূপ
লালন বলে, জাতের কি রূপ
দেখলাম না এ নজরে

সব লোকে কয়, লালন কি জাত সংসারে
সব লোকে কয়, লালন কি জাত সংসারে

ছুন্নত দিলে হয় মুসলমান
নারীর তবে কি হয় বিধান
ছুন্নত দিলে হয় মুসলমান
নারীর তবে কি হয় বিধান
ছুন্নত দিলে হয় মুসলমান
নারীর তবে কি হয় বিধান

বামন চিনি পৈতেয় প্রমাণ
বামন চিনি পৈতেয় প্রমাণ
বামনী চিনি কি প্রকারে?

সব লোকে কয়, লালন কি জাত সংসারে
সব লোকে কয়, লালন কি জাত সংসারে

কেউ মালা, কেউ তসবীর গলে
তাই কি রে জাত ভিন্ন বলে
কেউ মালা, কেউ তসবীর গলে
তাই কি রে জাত ভিন্ন বলে
কেউ মালা, কেউ তসবীর গলে
তাই কি রে জাত ভিন্ন বলে

যাওয়া কিংবা আসার বেলায়
যাওয়া কিংবা আসার বেলায়
জাতের চিহ্ন রয় কার রে

সব লোকে কয়, লালন কি জাত সংসারে
সব লোকে কয়, লালন কি জাত সংসারে

লালন বলে, জাতের কি রূপ
লালন বলে, জাতের কি রূপ
দেখলাম না এ নজরে

সব লোকে কয়, লালন কি জাত সংসারে
সব লোকে কয়, লালন কি জাত সংসারে

মাটির ও পিঞ্জিরায় সোনার ময়নারে - শাহ আবদুল করিম

 মাটির ও পিঞ্জিরায় সোনার ময়নারে তোমারে পুষিলাম কত আদরে! তুমি আমার, আমি তোমার এই আশা করে তোমারে পুষিলাম কত আদরে! কেন এই পিঞ্জিরাতে তোমার বস...